এসএম শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বালুচড়া নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন চলছে, যা নিয়ে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করে একদল অসাধু ব্যক্তি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান মাঝেমধ্যে চালু থাকলেও তা বালুখেকোদের কার্যক্রম থামাতে ব্যর্থ।
অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য বালু উত্তোলনের অনুমোদনের কথা বলে অনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
গত কয়েক মাস ধরে কলমাকান্দায় বালু উত্তোলন ও পাচারে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। নলচাপড়া বাজার থেকে শুরু করে কান্দাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রতিদিন দেড়শ লরি বালু পাচার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নেতাদের বক্তব্য-
নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কান্দাপাড়া ব্রিজ নির্মাণের কাজ সচল রাখতে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঠিকাদারকে সহযোগিতা করেছিলেন। এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে আমরা বালু সংগ্রহের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলাম, তবে তা কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লাভের জন্য নয়। পরে দলীয় হাইকমান্ডের নিষেধাজ্ঞায় আমরা এই কার্যক্রম থেকে সরে আসি।
ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি জমশেদ বলেন, কান্দাপাড়া ব্রিজের নির্মাণ কাজ চালু রাখতেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঠিকাদারকে কিছু বালু সরবরাহ করেছিলেন। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা এবং দলীয় নিষেধ থাকায় আমরা আর এতে যুক্ত হইনি। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বালু ব্রিজের কাজে এসেছে। তবে সেটা কার মাধ্যমে এসেছে বা কিভাবে এসেছে, তা ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারই ভালো বলতে পারবেন।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও প্রশাসনের ভূমিকায় বিতর্ক-
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বালুচড়া নদী থেকে দিন-রাতে বালু উত্তোলন চলছে। নলচাপড়া বাজার সংলগ্ন স্থানে বালু মজুদ করে তা লরিতে করে সরিয়ে নেয়া হয়। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি লরি আটক করা হলেও সেগুলো কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেড়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কয়েকটি গাড়ি আটক করা হয়েছিল। তবে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না।
উন্নয়নকাজের নামে অবৈধ কার্যক্রম-
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নকাজের আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এলাকার পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করেন, স্থানীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়। পরিবেশ সুরক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতার জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ ও প্রশাসনের অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।
বিশেষ ব্যস্থায় আসছে বালু-
এদিকে বালু পরিবহনের প্রতিটি লড়িতে থাকে একটি করে বিশেষ টিকিট। যা দেখানো হলে তাদের গাড়ি সহজেই ছেড়ে দেয়া হয়। কি সেই টিকেট, কে বা কারা দিচ্ছে, এর বৈধতা কতটুকু? এসব প্রশ্নের উত্তর থাকবে পরবর্তী পর্বে।