এসএম শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে ৫০০ টাকা করে আদায়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পাঠান বাবুল নতুন ভোটার হতে হলে হোল্ডিং ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করেছেন, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী। বিষয়টি এখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রথম পর্বে এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশের পর, এবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।
নির্বাচন অফিসারের প্রতিক্রিয়া: “এটি সম্পূর্ণ অবৈধ”
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এফ এইচ আজাদ জানান, “নতুন ভোটার হওয়ার জন্য সরকারি কোনো ফি নেই। কেবল সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার আওতায় বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল বা গ্যাস বিলের অনুলিপি চাওয়া হয় ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্সের শর্ত আরোপ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও): “তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইজুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, “জনগণের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, এবং আমরা এ নিয়ে তদন্ত করছি। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা
ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পাঠান বাবুল কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ খায়ের বলেন, “আমরা দলের কোনো নেতার অনিয়মকে সমর্থন করি না।
যদি কোনো নেতা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে, তাহলে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলার নেতাকর্মীরাও বিষয়টি অবগত আছেন।
জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা
এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক দরিদ্র ভোটার তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ সংগ্রহ করেছেন, অথচ ভোটার হওয়ার জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।
রংছাতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ, ৫০০ টাকা জোগাড় করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। অথচ এখন শুনছি এটা লাগবেই না। তাহলে আমাদের কাছ থেকে টাকা কেন নেওয়া হলো?”
অনেকে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে রশিদ হারিয়ে ফেলেছেন, ফলে তাদের জন্য আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা
এ ঘটনা নিয়ে কলমাকান্দা২৪.কম-এ প্রচারিত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে স্থানীয়রা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
অনেকেই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
প্রতিবেদনের শেষ পর্বে জানানো হবে—
✅ মোট কতজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে
✅ আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ কত
✅ প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী